মাদক ছড়াচ্ছে ইউটিউব-ফেসবুক!

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:২২  
ঔষধের নামে উত্তেজক সৃষ্টিকারী মাদক ছড়াচ্ছে গুগল’র মালিকানাধীন ইউটিউব এবং ফেসবুক। বিশেষ করে কিশোরদের এবং অল্পবয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে স্টেরয়েড পৌঁছে দেয়ার পথকে সহজ করে দিচ্ছে তারা। তথ্যানুসন্ধান গবেষণার মাধ্যমে এই অভিযোগ করেছে অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেলর হুটন ফাউন্ডেশন এবং ডিজিটাল সিটিজেন অ্যালায়েন্স। স্টেরয়েড’র জন্য গুগলে অনুসন্ধান করতেই গবেষকরা দ্রুত অসংখ্য প্রস্তাবিত ইউটিউব ভিডিও পেয়েছেন। এইভিডিওগুলোতে যারা এ ধরণের উত্তেজক ও মাদক কিনতে চান তাদের জন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগের নম্বর দিয়ে দেয়া আছে। কিভাবে তাদের ব্যবহার করতে হবে সেই পরামর্শও রয়েছে। সেখান থেকে এই ওষুধগুলো কিভাবে সহজে বের করা যায়, তাও প্রদর্শন করা হচ্ছে। এমনকি গবেষকরা একটি ফেসবুক পেজের একটি লিংক থেকে সরাসরিএকটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস থেকে এসব বায়না দেয়ারও লিংক করে দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে মডেল, অ্যাথলেটরা ছাড়াও কিশোর কিশোরীরা সেগুলো কিনে স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছেন। তারা আরও জানান, ডিলার এবং ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো প্লাটফর্মে শরীরচর্চা বা ফিটনেস মডেলের ক্ষেত্রে ডিলারদের পরামর্শ এবং বিজ্ঞাপনের আড়ালে এসব নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর ঔষুধের লিঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। যারা স্টেরয়েড ব্যবহার করেছেন তাদের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে অর্ধেকের বেশি মানুষ যারা এগুলো ব্যবহার করেন তারা এখন শুধুমাত্র তাদের চেহারা উন্নত করতে স্টেরয়েড দিকে ঝুঁকছেন। কিন্তু খেলাধুলোয় ভালো করছেন না। ইউটিউব এবং ফেসবুক চরমপন্থী কনটেন্ট এবং রাজনৈতিক ভুল তথ্য প্রচার এবং তাদের প্লাটফর্মে এই সমস্যাগুলো মোকাবেলায় সাঁড়াশি ব্যবস্থা নিচ্ছে। এছাড়াও তারা অন্যান্য সামাজিক সমস্যা যেমন কোকেন বা হেরোইন ব্যবহার এবং শিশু পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে পুলিশিং কর্মসূচি পালন করছে। কিন্তু স্টেরয়েড এবং এপিডস নিয়ে তারা এখনো নির্বিকার। অথচ এই ওষুধ ফিটনেস মডেল, ক্রীড়াবিদ এবং কিশোরদের স্বাস্থ্য সমস্যার অন্যতম কারণ। ইউটিউবের এক মুখপাত্র সিএনবিসি-কে জানিয়েছেন, এ বছরের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে 'ক্ষতিকারক বা বিপজ্জনক ' ক্যাটাগরিতে ৯০ হাজার ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে, যার মধ্যে স্টেরয়েড ব্যবহার এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজকর্মে অগণ্য এমন একটি বিভাগ রয়েছে।